কুমিল্লার ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য। এবার মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে অস্থায়ী গেটম্যান কাউসারকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৃথক অভিযানে মামলার প্রধান আসামি হেলাল উদ্দিনকে ব্রাহ্মণপাড়ার শংকুচাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীমউদ্দিন জানান, তদন্তে কাউসারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ মামলার আরেক আসামি মেহেদী হাসান এখনও পলাতক রয়েছে, তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান সঠিকভাবে সিগন্যাল পেয়েছিল কি না, কিংবা দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতার হওয়া হেলাল উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রী শেফালী আক্তার বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়। শেফালী আক্তার নিহত সোহেল রানার খালা এবং তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম এলাকায়।
ঘটনাটি ঘিরে এখনো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে, আর তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে আছে স্বজন হারানো পরিবারগুলো।