মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রি, পাম্প ব্যবস্থাপকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনের নামে আনা বিপুল পরিমাণ পেট্রোল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে পাম্প ম্যানেজারসহ দুইজনকে আটক করেছে প্রশাসন ও পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে রুমী ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার এস এম বাবুল হোসেন (৫০) এবং স্থানীয় তেল ডিলার মামুন প্রধান (৪২) আটক হন। পরে তাদের শিবালয় থানায় সোপর্দ করা হয়।
প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি ফিলিং স্টেশনের নামে বুধবার রাতে ফতুল্লায় অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো থেকে একটি তেলবাহী লরিতে করে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ৯ হাজার লিটার ডিজেল আনা হয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পাম্পে আনলোড না করে পেট্রোলের একটি বড় অংশ পাশ্ববর্তী টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত একটি দোকানে অবৈধভাবে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রি করে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নজরে আনে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করে। পরে ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ সময় মামুন প্রধানের দোকান থেকে ২১ ড্রাম পেট্রোল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তেল পরিবহনে ব্যবহৃত লরিটিও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এ ধরনের অবৈধ তেল ব্যবসা চলার অভিযোগ তুলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম রোধে ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার জানান, জব্দ করা পেট্রোল বিধি অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments Box