নাটোর জেলায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৮৯ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন কিছুটা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও তারা বলছে, এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে সদর হাসপাতালে ৮ জন, বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, লালপুর উপজেলায় ১ জন, বড়াইগ্রামে ৩ জন এবং সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগই শিশু ও কিশোর বয়সী বলে জানা গেছে, যাদের পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মোট ১৯ হাজার ৩২৯ জনকে হাম প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা প্রদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
নাটোর সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে ১৮ দিনব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকা প্রদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া জানিয়েছেন, প্রতিদিন কিছু নতুন রোগী শনাক্ত হলেও পরিস্থিতি আতঙ্কিত হওয়ার মতো নয়। তিনি বলেন, জেলা সদর হাসপাতালসহ সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, জনগণ যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহণ করে, তাহলে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।