মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জ্বালানি সংকটের চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং গ্রাহকরাও আগের তুলনায় স্বস্তিতে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার প্রবণতা কমেছে, ফলে ভোগান্তিও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সেখানে প্রায় ৩৬ হাজার লিটার অকটেন এবং ২৭ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন আজ থেকেই দৃশ্যমান হচ্ছে। তারা আশা করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা চাপ দ্রুতই কমে আসবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সরবরাহ বাড়ার ফলে প্রতিদিন আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক যানবাহনে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে করে পরিবহন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে গণপরিবহন চালকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর, কারণ জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছিল।
অন্যদিকে, সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত থেকে অনেক ক্রেতা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর জ্বালানি সংগ্রহ করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আগের দিনগুলোর তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাম্পগুলোর সামনে আগের মতো দীর্ঘ সারি আর তেমন দেখা যাচ্ছে না, যদিও কিছু জায়গায় এখনও মাঝারি ভিড় রয়েছে।
ভোক্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ার কারণে ভোগান্তি কমেছে এবং তারা দ্রুত তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। তবে তারা এও মনে করছেন, এই সরবরাহ বৃদ্ধির ধারা যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তবেই পুরোপুরি সংকট কেটে যাবে। অন্যথায় আবারও আগের মতো চাপ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফুয়েল পাসধারীরা সর্বোচ্চ ১,২০০ টাকার জ্বালানি পাচ্ছেন, নন-পাসধারীদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা। আর ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকার জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সীমা বহাল থাকতে পারে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, রাজধানীর জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে অচিরেই জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ও ভোক্তারা।