যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা-তে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ অবশেষে তার পৈতৃক নিবাস জামালপুর-এ পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় সন্তানের মরদেহ ফিরে পাওয়ায় পরিবার-পরিজন, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার (৪ মে) বিকেল প্রায় ৩টা ১২ মিনিটে মাদারগঞ্জ উপজেলা-র লালডোবা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহটি পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্না, আহাজারি আর প্রতিবেশীদের ভিড়ে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে শোক ও বেদনায়।
এর আগে একই দিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্স-এর একটি ফ্লাইটে করে লিমনের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ এসে পৌঁছায়। সেখানে সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মরদেহ গ্রহণ করেন এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে তা পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর দ্রুতই মরদেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।
বিকেল থেকেই লালডোবা গ্রামে লিমনের শেষ জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়। মাগরিবের নামাজের পর লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-র পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি মহলে। নিখোঁজের আট দিন পর, ২৪ এপ্রিল হিলসবোর কাউন্টি-র একটি সেতুর নিচ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।