পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, গত ৬ মে সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় মেয়েটি। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, সে স্বাভাবিক নিয়মেই স্কুলে গেছে। তবে স্কুল ছুটির পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে স্বজনরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, ওই শিক্ষার্থী সেদিন স্কুলেই উপস্থিত হয়নি।
এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছেও যোগাযোগ করা হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থীর বাবা দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে শিক্ষার্থীর বাবার মোবাইলে ফোন আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে একজন নিজেকে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আপনার মেয়ে আমার কাছে আছে, আমি তাকে বিয়ে করেছি।” কথোপকথনের পর থেকেই মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
পরে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল নম্বরটির তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। ট্রুকলার ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে পুলিশ আব্বাস আলী ওরফে আকাশ নামে এক ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর হাজিরহাট এলাকায় হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছেন।
তদন্তের একপর্যায়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গত ৮ মে রাতে বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার একটি বাসা থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সুলতানা রোজ নিপা নামে এক নারীর কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরে শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৩ মে শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত আব্বাস আলী ওরফে আকাশ দেবীগঞ্জ এলাকায় একটি ভেকু মেশিন কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় তিনি কলেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। অভিযোগে বলা হয়, স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি এবং পরে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু শিক্ষার্থী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তাকে অপহরণ করা হয়।
মামলায় আব্বাস আলী ওরফে আকাশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সুলতানা রোজ নিপা ও দেবীগঞ্জ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফজিলা বেগমকে মামলার অন্য দুই আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বিভিন্ন দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।