‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর কেনার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের তৈরি ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা তথাকথিত ‘শাহেদ-হান্টার’ ড্রোন কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ।
ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করা ইউক্রেন ইতোমধ্যে এসব ইন্টারসেপ্টর ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর কাছে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে তারা এমন আধুনিক অস্ত্র পেতে চায়, যেগুলো ইউক্রেনের পক্ষে নিজস্বভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়।
চার বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার সময় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প খুবই দুর্বল অবস্থায় ছিল। যুদ্ধের চাপে দেশটি দ্রুত নিজেদের অস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে মনোযোগ দেয়। বিশেষ করে কম খরচে ড্রোন উৎপাদনের ওপর জোর দিয়ে তারা একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তোলে। এসব ড্রোনের একটি অংশ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার জন্য, যেগুলো রাশিয়া বিপুল পরিমাণে ব্যবহার করছে।
সাধারণত একটি ড্রোন ভূপাতিত করতে পশ্চিমা দেশগুলো যে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার প্রতিটির দামই কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর তুলনায় ইউক্রেনের তৈরি সস্তা ইন্টারসেপ্টর ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন ধরনের কৌশল যোগ করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চাইলে এ প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত ইউক্রেন। এ ধরনের ড্রোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Skyfall জানিয়েছে, তারা প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে। এর মধ্যে ৫ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ড্রোন রপ্তানি করা সম্ভব।
তবে শুধু ড্রোন তৈরি করাই নয়, সেগুলো দক্ষভাবে পরিচালনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের প্রশিক্ষিত অপারেটররা এ কাজে অভিজ্ঞ। তাই ড্রোন ব্যবহারের জন্য প্রায় তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক ছোট হলেও এই নিখুঁত ড্রোনগুলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
সম্প্রতি ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু করলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউক্রেনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভের জন্য অস্ত্র রপ্তানি সীমিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কম খরচে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরি করা ইউক্রেনীয় কোম্পানিগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে তারা উল্লেখযোগ্য আগ্রহ পাচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্য দেশগুলোও এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করতে পারলেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা করা এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইউক্রেনের কাছেই।



