৬০ বছরের ইতিহাসে ব্যতিক্রম? আল-আকসায় ঈদের নামাজ হয়নি

বাংলা ফ্ল্যাশ বাংলা ফ্ল্যাশ

সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২:২৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২৬

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে আল‑আকসা মসজিদে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে

জেরুজালেম, মার্চ ২০: ধর্মীয় ইতিহাসে এক বিরল মুহূর্তে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের নামাজ সময় এ বছরের জন্য আল‑আকসা মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়নি। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী নিরাপত্তা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি উসকে দিয়ে মসজিদে প্রবেশের পথে মুসল্লিদের বাধা দিয়েছে এবং মসজির দরজা বন্ধ করে রেখেছে। এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ১৯৬৭ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো এমনভাবে, যেখানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি।

নামাজে প্রবেশ বাধা ও মুসল্লিদের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদের প্রবেশ পথ বন্ধ রাখায় শত শত মুসল্লি সমাবেশ করেছেন জেরুজালেম পুরাতন শহরের প্রাচীরের গেটে। তাঁরা নিজেদের দোয়া পড়েছেন মসজিদের বাইরে, ঈদের সকালে ঈদগাহের বাইরে দাঁড়িয়ে। মুসল্লিরা বলেন এটি অত্যন্ত বেদনার দিন এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গভীর ক্ষতি।

ইতিহাসে প্রথম বিরল ঘটনা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর থেকে পূর্ব জেরুজালেমে আল‑আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ বাধাগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আশ্রয় করে ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদ ও এলাকা ওতপ্রতভাবে বন্ধ রেখেছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পবিত্র স্থানে প্রবেশাধিকারের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা

নিরাপত্তা বাহিনী পুরাতন শহরের রাস্তা এবং মসজিদ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখছে। প্রতিবেদন জানায়, পুলিশ কখনও কখনও গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করেছে, যদিও বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। মুসল্লিরা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, এবং ইমাম একটি সংক্ষিপ্ত খুতবা দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। আরব লীগ ও Organisation of Islamic Cooperation এর মতো সংগঠনগুলো এটিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং ইসরায়েলের উপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। বহু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এটিকে “উগ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা” বলে প্রতিপন্ন করেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় গুরুত্ব

আল‑আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের প্রার্থনা এবং জমায়েত এখানে থাকে, কিন্তু এই বছর মসজিদ অভ্যন্তরে প্রবেশের বাধায় মুসল্লিরা বাইরে নামাজ আদায় করেছেন। এটি মুসলিম বিশ্বে ঘোর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পবিত্র স্থানে প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি

বর্তমানে মসজিদ ও পুরাতন শহরের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলেন এটি “সুরক্ষার প্রয়োজনে” নেয়া সিদ্ধান্ত, কিন্তু ধর্মীয় নেতারা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় অবাধ worship বাধাগ্রস্ত করার বহিঃপ্রকাশ বলে দেখছেন। পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কি ধরনের প্রকৃতি নেয়, তা এখনও অনিশ্চিত।

Facebook Comments Box