আবারও জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, অদূর ভবিষ্যতে ডিজেলের দাম প্রায় ৯ সেন্ট এবং গ্যাসোলিনের দাম ৪ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দামের ওঠানামা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, উৎপাদনকারী দেশগুলোর নীতিগত পরিবর্তন এবং পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে স্থানীয় বাজারে, যেখানে খুচরা বিক্রেতারা আগাম মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।
খুচরা পর্যায়ে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা ইতোমধ্যেই লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে ডিজেল ও গ্যাসোলিনের মতো জ্বালানির ক্ষেত্রে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও পরিবহন খরচে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে তা শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং অন্যান্য সেবার ওপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
সর্বোপরি, জ্বালানি বাজারের এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং সরকারের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়।