যুক্তরাষ্ট্রের Florida অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মিয়ামি-ডেড ও ব্রাওয়ার্ড কাউন্টিজুড়ে জ্বলতে থাকা ‘ম্যাক্স রোড ফায়ার’ ইতোমধ্যে ৭ হাজার একরেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে। রোববার শুরু হওয়া এই আগুন সোমবার সকাল নাগাদ আরও বিস্তৃত হয়ে পুরো অঞ্চলের আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে দেয়। দূর থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্লোরিডা ফরেস্ট সার্ভিস জানিয়েছে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক দমকলকর্মী ও জরুরি সেবা সদস্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকে পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক ছিটানো হচ্ছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও দমকা বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে পশ্চিম ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও খোলা জমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ৬৫০টি বাড়ির চারপাশে প্রতিরোধমূলক সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি আগুনের গতিপথ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
দাবানলের প্রভাব শুধু বনাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, ঘন ধোঁয়ার কারণে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুর মানও মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও মাথাব্যথার অভিযোগ করছেন। এ পরিস্থিতিতে National Weather Service শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে পার্শ্ববর্তী সমারসেট একাডেমি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তবে আপাতত শিক্ষা কার্যক্রম ও নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ভারী ধোঁয়ার কারণে ইউএস-২৭ মহাসড়কসহ সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে দৃশ্যমানতা কমে গেছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পুলিশ চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালানো এবং প্রয়োজন ছাড়া ওইসব এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দাবানলের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।