বিশ্বখ্যাত সুইডিশ আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জা প্রতিষ্ঠান IKEA পর্তুগালে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল পরিচালনাকারী গ্রুপ Ingka Group-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুভেনসিও মেজতু বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য পর্তুগাল বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ। তিনি মনে করেন, দেশটিতে বিনিয়োগের পরিবেশ, জলবায়ু নীতি এবং সবুজ জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
ইকেয়া ইতোমধ্যেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি পর্তুগালকে ভবিষ্যৎ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে। জুভেনসিও মেজতুর মতে, পর্তুগালে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি সহায়তা এবং পরিবেশবান্ধব নীতিমালা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিরাপদ ও লাভজনক হতে পারে। তিনি বলেন, “পর্তুগালে সবুজ শক্তির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমরা এখানে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ দেখছি।”
এই গ্রীষ্মেই পর্তুগালের ঐতিহাসিক শহর Coimbra-এ ইকেয়ার নতুন স্টোর চালু হতে যাচ্ছে। নতুন এই স্টোর চালুর মাধ্যমে দেশটিতে কোম্পানিটির উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে। ইকেয়া জানিয়েছে, নতুন শাখাটি শুধু বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং টেকসই প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর একটি উদাহরণ হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ব্যবহার, শক্তি সাশ্রয়ী আলো এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পর্তুগাল বর্তমানে ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত বিকাশমান বাজারগুলোর একটি। দেশটি ইতোমধ্যে সৌর ও বায়ুশক্তি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে পর্তুগাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটিকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে দেখছে।
ইকেয়া শুধু খুচরা ব্যবসা নয়, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগেও নিজেদের বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের কার্যক্রমকে আরও টেকসই করার পথে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইকেয়ার মতো বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগ পর্তুগালের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে এবং সবুজ জ্বালানি খাতে আরও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসতে পারে। পাশাপাশি ইউরোপের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনায় পর্তুগালের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।