পর্তুগালের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল Chega তাদের জাতীয় পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এই সংস্কারগুলো সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করবে। ফলে প্রধানমন্ত্রী Luís Montenegro নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়ে গেছে।
চেগার জাতীয় পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম সংস্কার আসলে “শ্রমিকদের ওপর সরাসরি আক্রমণ”। দলটির অভিযোগ, নতুন শ্রম আইন কর্মীদের অধিকার সীমিত করবে এবং চাকরির নিরাপত্তা কমিয়ে দেবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কারকে “দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার একটি পথ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিষদের সদস্যরা সরকারের নীতিকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ধরনের সংস্কার দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক ভারসাম্যকে দুর্বল করবে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ প্রধান বিরোধী দল Socialist Party (পিএস) ইতোমধ্যেই শ্রম আইন সংশোধনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে চেগাও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সংসদে বিলটি সাধারণ ভোটাভুটিতে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মন্টেনেগ্রো সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হতে পারে।
চেগা নেতারা আরও দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে এমন নীতি গ্রহণ করছে যা সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলবে। দলটির মতে, শ্রমবাজারে নমনীয়তা আনার অজুহাতে কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে যা ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই বিরোধিতা ভবিষ্যতে পর্তুগালের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সংসদে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দুর্বল হলে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে চেগা নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারবিরোধী ইস্যুগুলোকে সামনে এনে জনসমর্থন বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।