ওসি প্রদীপের ফাঁসি কার্যকর হয়নি — অপকর্মের কালো অধ্যায় রয়ে যাচ্ছে
কক্সবাজারের কুখ্যাত সাবেক টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়ংকর এক অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বহুল আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে এখনো তার ফাঁসি কার্যকর হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে “ওসি প্রদীপের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে”— তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
প্রদীপের ভয়াবহ অপকর্ম
- বিচারবহির্ভূত হত্যা (ক্রসফায়ার): টেকনাফ ও কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
- মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকা: অভিযুক্ত ছিলেন যে তিনি নিজের সুবিধার্থে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে গোপনে লেনদেন করতেন।
- চাঁদাবাজি ও দমননীতি: স্থানীয় জনগণকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন, বিরোধীদের ভুয়া মামলায় জড়িয়ে দিতেন।
- মানবাধিকার লঙ্ঘন: বহু পরিবারকে নিঃস্ব করেছেন, গ্রামেগঞ্জে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
মেজর সিনহা হত্যা মামলা
২০২০ সালের জুলাই মাসে কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা রাশেদ। এ ঘটনার প্রধান আসামি ছিলেন ওসি প্রদীপ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রদীপকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।
তবে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। ফলে প্রদীপের ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
ফাঁসি কার্যকর হয়নি – গুজব ছড়ানো হচ্ছে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “প্রদীপের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে” বলে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ভাইরাল হয়। অথচ সত্য হলো— সরকার বা কারাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে প্রদীপ এখনো কারাগারে রয়েছেন এবং তার মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
বাংলাদেশের জনগণের প্রতীক্ষা
প্রদীপ কুমার দাশ শুধু একটি নাম নয়— তিনি বাংলাদেশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতীক। মানুষ আজও অপেক্ষা করছে, আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হোক, আর তার মতো দাগী অপরাধীর প্রকৃত শাস্তি কার্যকর হোক।
