
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কমিটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। সবগুলো কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের গঠিত ৫ সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরী। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিআরটিএ কুমিল্লার সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
এদিকে, রেলওয়ের পক্ষ থেকে গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির একটি বিভাগীয় ও অন্যটি জোনাল পর্যায়ের। প্রতিটি কমিটিতে ৬ জন করে মোট ১২ জন সদস্য রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও অনেক যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরাও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে সকাল ৮টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।


