সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। রাতভর আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে থাকার পর ভোর হতেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় শুরু হয় টানা বৃষ্টি। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতাও বাড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে বইতে থাকে দমকা বাতাস, মাঝে মাঝে দেখা যায় বিদ্যুৎ চমকানো এবং শোনা যায় বজ্রধ্বনি। দেশের বিভিন্ন জেলাতেও একই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়ার এমন বিরূপ অবস্থার কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সমুদ্রবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে, যাতে আবহাওয়ার অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার এবং ছোট জলযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। উত্তাল সাগর ও দমকা বাতাসের কারণে মাঝিদের অপ্রয়োজনে গভীর সাগরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। এতে নিচু এলাকা ও নগরীর কিছু অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সকালে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরতে পারে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।