জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’-এর তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। শুক্রবার (৮ মে) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরোধিতা করেন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জলবায়ু আন্দোলনকারীরা বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত আবহাওয়া, বন্যা, খরা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের পেছনে অন্যতম কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ফসিল ফুয়েল নির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশেও এখনও কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। তাদের মতে, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
কৃষি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বিভিন্ন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কৃষিজমি অধিগ্রহণের ফলে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে আশপাশের নদীর পানিদূষণ বেড়েছে এবং মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তরুণ জলবায়ু কর্মীদের ভাষ্য, একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। তারা সরকারের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
পরিবেশকর্মীরা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।