নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আওতায় আনার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড–এর মধ্যে ৬০০ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ‘অন-গ্রিড ওপেক্স মডেল সোলার সিস্টেম’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। বাংলাদেশও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও সহায়ক হবে।