সিলেটে ‘পুলিশ পরিচয়ে’ রহস্যজনক দল: বাসায় গিয়ে খোঁজ, পরে মিললো না কোনো পুলিশ—ডাকাতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২৬

সিলেট নগরীতে গভীর রাতে এক বাসায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজনের উপস্থিতিকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি ছদ্মবেশী ডাকাত দলের কৌশল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট এম. এ. হাকিম জানান, ইফতারের পর রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় আনুমানিক রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তার বাসার কলিংবেল বারবার বাজানো হয়। দরজা খুলে তিনি দেখতে পান, ৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সঙ্গে ১৪-১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েও ছিল।

তারা ওই মেয়েকে দেখিয়ে জানতে চায়, তিনি তাকে চিনেন কি না। মেয়েটি দাবি করে, এই বাসায় আগে “সায়মা” নামের কেউ থাকত। কিন্তু বাসার মালিক বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

ঘটনার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী স্থানীয় থানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে নিশ্চিত করা হয়, ওই সময় কোনো পুলিশ টিম সেখানে যায়নি। এতে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।

এদিকে বাসার সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, একই রাতে সাড়ে ১০টার দিকে হলুদ পোশাক পরা এক কিশোরী বাসায় এসে ফিতরার টাকা চেয়েছিল। তখন তাকে পরবর্তীতে আসতে বলা হয়। পরে যে মেয়েটিকে পুলিশ পরিচয়ে আসা দলটি দেখায়, তার পরনেও একই ধরনের হলুদ পোশাক ছিল—যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীর ধারণা, বাসায় পুরুষ সদস্য নেই এমন তথ্য পেয়ে দলটি পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দরজা খুলে পুরুষ সদস্য দেখে তারা পরিকল্পনা পরিবর্তন করে চলে যায়।

উল্লেখ্য, এর আগেও সিলেটে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একদল ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ডাকাতি করতে গিয়ে আটক হয়েছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হয় 

এ ঘটনায় নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অপরিচিত কারও জন্য দরজা না খোলা, এবং পুলিশের পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।

সূত্র: অ্যাডভোকেট এম. এ. হাকিমের ফেসবুক পোস্ট

Facebook Comments Box