বাচ্চাদের খিচুড়ি খাওয়ার উপকারিতা

প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

অনেক বাবা-মায়ের মনে একটা প্রশ্ন ঘোরে বাচ্চাকে খিচুড়ি খাওয়ানো কি সত্যিই দরকার? কেউ বলেন খাওয়ানো খুব জরুরি, আবার কেউ বলেন দরকার নেই। এই লেখায় আমি পুষ্টিবিদ মোঃ বেলাল হোসেন খুব সহজ ভাষায় আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করব কেন বাচ্চাদের জন্য খিচুড়ি একটি ভালো খাবার।

বাচ্চাদের জন্য খিচুড়ির উপকারিতা

  • বাচ্চার প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে
  • খুব সহজে হজম হয়
  • শরীর আর মস্তিষ্ক গঠনে সাহায্য করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • খেতে নরম ও সুস্বাদু

৬ মাসের পর খিচুড়ি কেন দরকার?

জন্মের পর প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত বাচ্চার জন্য শুধু মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এই সময়ে বুকের দুধেই বাচ্চার শরীর ও মাথার বিকাশের জন্য সব দরকারি পুষ্টি থাকে। তাই ৬ মাস পর্যন্ত এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং খুবই জরুরি।

৬ মাস পার হলে বাচ্চাকে আস্তে আস্তে ঘরের তৈরি খাবারের সাথে পরিচয় করাতে হয়। এই সময়টা বাচ্চার বেড়ে ওঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে যদি খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হয়, তাহলে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না।

বাচ্চার খাবারে সমস্যা কোথায়?

বাচ্চাকে সঠিক পুষ্টি দিতে হলে ভাত বা রুটি, মাছ বা মাংস বা ডিম, শাকসবজি আর অল্প তেল সবকিছু একসাথে খাওয়াতে হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, ছোট বাচ্চারা মাছ, মাংস বা ডিম সহজে খেতে চায় না। এতে করে অনেক সময় বাচ্চার শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হয়ে যায়।

এই সমস্যার সহজ সমাধান হলো খিচুড়ি।

খিচুড়ি কেন এত উপকারী?

মাছ, মাংস আর ডিমকে বলা হয় ভালো মানের বা ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন। এগুলো বাচ্চার শরীর আর মস্তিষ্ক গঠনে খুব দরকার। ডালও প্রোটিন দেয়, তবে ডাল একা খেলে সব দরকারি উপাদান পাওয়া যায় না।

কিন্তু যখন চাল আর ডাল একসাথে রান্না করা হয় (মানে খিচুড়ি), তখন চালের ভেতরে থাকা উপাদান ডালের ঘাটতি পূরণ করে। এতে করে ডালও ভালো মানের প্রোটিনে পরিণত হয়।

সহজ কথায় বলতে গেলে মাছ-ভাত খাওয়ালে যেমন উপকার, ঠিক তেমনই উপকার পাওয়া যায় ভালোভাবে রান্না করা ডালের খিচুড়ি থেকেও।

খিচুড়ির সাথে আর কী দিলে ভালো হয়?

খিচুড়িতে যদি অল্প তেল, হলুদ, আদা আর মৌসুমি শাকসবজি (লাউ, কুমড়া, গাজর, পালংশাক ইত্যাদি) দেওয়া হয়, তাহলে খাবারটা আরও পুষ্টিকর হয়। এতে বাচ্চা পায় দরকারি ভিটামিন ও মিনারেল।

ডাল-ভাত আর খিচুড়ি কি এক জিনিস?

অনেকে ভাবেন আলাদা করে ডাল আর ভাত খাওয়ালেই তো হলো। কিন্তু আসলে খিচুড়ি আর ডাল-ভাত এক জিনিস না। একসাথে রান্না করলে যে পুষ্টিগুণ তৈরি হয়, আলাদা করে খেলে সেটা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। তাই বাচ্চাদের জন্য খিচুড়িই বেশি ভালো।

খিচুড়ি খাওয়ার অপকারিতা

খিচুড়ি এমনিতে খুবই পুষ্টিকর আর নিরাপদ খাবার। কিন্তু বেশি খেলে বা ঠিকমতো না বানিয়ে খেলে কিছু ঝামেলা হতে পারে।

১. হজমের গোলমাল: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা যদি বেশি মসলা বা বেশি ডাল দিয়ে খিচুড়ি খায়, তাহলে বুক জ্বালা, গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়তে পারে।

২. রক্তে সুগার বেড়ে যাওয়া: খিচুড়িতে যদি চাল বেশি থাকে আর সবজি বা আঁশ কম থাকে, তাহলে এটা তাড়াতাড়ি রক্তে সুগার বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এটা ভালো না।

৩. ওজন বাড়ার ঝুঁকি: অনেক ঘি, তেল বা মাখন দিয়ে খিচুড়ি রান্না করলে সেটা খুব ক্যালরিযুক্ত হয়ে যায়। নিয়মিত এমন খেলে ওজন বাড়তে পারে।

৪. কিডনি রোগীদের সাবধানতা: খিচুড়িতে যেসব ডাল দেওয়া হয়, তাতে প্রোটিন আর পটাশিয়াম বেশি থাকে। গুরুতর কিডনি রোগীরা ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করে খাওয়া ঠিক না।

তাই সুস্থ থাকতে খিচুড়িতে বেশি করে সবজি দিতে হবে, তেল-ঘি কম ব্যবহার করতে হবে আর পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

শেষ কথা

বাচ্চাদের নিয়মিত খিচুড়ি খাওয়ানোর অভ্যাস করলে তারা সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। এতে বেশি খরচ নেই, আবার আলাদা কোনো ঝামেলাও নেই। চাল আর ডাল একসাথে থাকায় এটি একটি পরিপূর্ণ খাবার।

সবজি আর অল্প তেল যোগ করলে খিচুড়ি হয়ে ওঠে বাচ্চাদের জন্য আদর্শ খাবার। তাই বলা যায় খিচুড়ি শুধু সহজ খাবার না, এটা বাচ্চার সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook Comments Box