
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া এলাকায় একটি সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহতরা হলেন উপজেলার বেঙ্গাডোবা এলাকার বাসিন্দা ও সিএনজি অটোরিকশা চালক আক্কাছ মিয়া (৩৮) এবং একই এলাকার মনোয়ারা বেগম (৭০)। তিনি মৃত কামরুল হাসানের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তাকলিমা বেগম ও লিটন মিয়া। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছিল। দক্ষিণ বেজুড়া এলাকার একটি সেতুর ওপর পৌঁছালে চালক সামনে থাকা আরেকটি সিএনজিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সিএনজি অটোরিকশাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিএনজি চালক আক্কাছ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারা বেগমেরও মৃত্যু হয়। আহত অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং দ্রুতগতির যান চলাচলকে এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


