
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে রাসেল (২৫) নামে এক হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের মিলন বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
নিহত রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কনা মিয়ার ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন করতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ বস্তা সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকটি চম্পকনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৫টার দিকে ট্রাকটি বিজয়নগরের মিলন বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর ট্রাকটি রাস্তার পাশের খালে উল্টে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের ভেতরে থাকা যাত্রী ও শ্রমিকরা ছিটকে পড়লেও হেলপার রাসেল ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তারা আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ট্রাকের নিচে আটকে পড়া রাসেলকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে বিজয়নগর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধুনিক সরঞ্জামের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ট্রাকের নিচে চাপা পড়া রাসেলকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ট্রাকটি খালে পড়ে যাওয়ার পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজয়নগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ট্রাকের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেও কাজ করা হয়।
এদিকে বিজয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ট্রাকটির গতি বেশি থাকা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
নিহত রাসেলের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।


