
নেত্রকোণার মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন বলে জানা গেছে। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা রাজিব মিয়া (২৪) সকালে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাজিব পেশায় একটি ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন ছিলেন।
অন্যদিকে, কেন্দুয়া উপজেলার মোড়াইল বিল এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন দিগলী গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হুদা (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিলে অবস্থানকালে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
একই সময়ে কেন্দুয়া উপজেলার সান্ধিকোণা গ্রামেও বজ্রপাতের আরেকটি ঘটনা ঘটে। আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খালে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে নিহত হন। হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত হওয়ায় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে খোলা মাঠ, বিল, হাওর, নদী কিংবা জলাশয়ে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই দিনে তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় নেত্রকোণার সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


