দুবাইয়ের সড়কে ২০২৬ সালে যুক্ত হবে ৭৩৫ ইলেকট্রিক বাস

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক শহর Dubai। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মধ্যে শহরজুড়ে মোট ৭৩৫টি ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে Roads and Transport Authority (আরটিএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন বাসগুলো একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে শহরের বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে। বর্তমানে দুবাইয়ে প্রায় ৪০টি বৈদ্যুতিক বাস চলাচল করছে, যা ভবিষ্যতের বৃহৎ পরিকল্পনার তুলনায় এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
শুধু ইলেকট্রিক বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে হাইড্রোজেনচালিত যানবাহন যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এতে করে জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বাসগুলোর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে আধুনিক চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। আল কুয়োজ, আল রুওয়াইয়া, লেহবাব, বিজনেস বে এবং জেবেল আলী—এই পাঁচটি ডিপোতে ইতোমধ্যে উন্নত চার্জিং সুবিধা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব ডিপোতে ৩৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ৩২টি উচ্চক্ষমতার চার্জার পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসগুলো চার্জ করতে সক্ষম হবে।
ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘এফ-১৩’ রুটে একটি নতুন ইলেকট্রিক বাস চালু করা হয়েছে, যা যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই বাসটি একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ৪৭০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার শক্তিশালী ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে সক্ষম।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বাসগুলোতে আরামদায়ক আসন, প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ নকশা এবং উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তীব্র গরম আবহাওয়াতেও যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্মার্ট প্রযুক্তি সংযোজনের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ শুধু গণপরিবহন খাতের উন্নয়নই নয়, বরং একটি পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্বের অন্যান্য শহরের জন্যও একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box