
চুয়াডাঙ্গায় হাম সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মৃত শিশুটির নাম আমির হামজা, বয়স মাত্র ৮ বছর। শনিবার (২ মে) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমির হামজা দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীমের ছেলে। কয়েকদিন ধরে জ্বর, ফুসকুড়ি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ এপ্রিল তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
চিকিৎসকরা জানান, ভর্তি হওয়ার পর কিছু সময় তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একই সঙ্গে এলাকায় আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও বেশ কয়েকজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি রোগীর ওপর বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুস সাকিব জানান, “হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনেক শিশু ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।


