
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের নিলাম-অযোগ্য অবৈধ পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকা এসব পণ্য অবশেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস করা হয়, যাতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমস হাউজ প্রাঙ্গণে এ ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ও পুলিশ এসব পণ্য জব্দ করে। পরবর্তীতে সেগুলো কাস্টমসের গুদামে সংরক্ষণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ফলে পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যায় এবং অধিকাংশই নিলামের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে গুদামে এসব পণ্য পড়ে থাকায় জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
ধ্বংস করা পণ্যের তালিকায় ছিল ইঁদুরে কাটা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, আমদানি নিষিদ্ধ আতশবাজি, বিড়ি ও সিগারেটসহ মোট ১৭ ধরনের পণ্য। বিশেষ করে অবৈধ আতশবাজি ও তামাকজাত দ্রব্যগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ধ্বংস করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
ধ্বংস কার্যক্রমটি কাস্টমসের নির্ধারিত বিধিমালা মেনে একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন। কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার এবং ধ্বংস কমিটির সদস্য সচিব মো. আতিকুর রহমান জানান, কাস্টমসের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জব্দকৃত এবং নিলাম-অযোগ্য অবৈধ পণ্য ধ্বংস করা হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে জব্দ হওয়া যেসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারজাত করা সম্ভব নয়, সেগুলোই এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। এবারের কার্যক্রমে মোট ৯৪৬টি জিআরের পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশই ছিল অবৈধভাবে আনা ভারতীয় আতশবাজি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত ধ্বংস কার্যক্রম অবৈধ পণ্যের মজুত কমাতে সহায়ক হবে এবং একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান নিরুৎসাহিত করবে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশের ঝুঁকি কমাতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


