
চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১২ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (১২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির একটি বিশেষ অভিযান দল সীমান্তবর্তী হেলাতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল চোরাচালান প্রতিরোধে চলমান নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দামুড়হুদা উপজেলার বড়বলদিয়া বিওপির অধীন সীমান্ত পিলার-৮৪ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে হেলাতলা এলাকায় একটি অস্থায়ী বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। ওই চেকপোস্টে সন্দেহভাজন যানবাহন, পথচারী ও মালামাল পরিবহনকারী যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।
তল্লাশির এক পর্যায়ে একটি ভ্যানগাড়িকে থামিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়। পরে ভ্যানের ভেতরে থাকা একাধিক ড্রাম থেকে ২১২ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়, যা বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ডিজেল সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে জব্দকৃত ডিজেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ডিজেল জব্দ করে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জব্দকৃত ডিজেল অবৈধভাবে সীমান্ত ব্যবহার করে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ জ্বালানি পাচার, মাদক বা চোরাচালান কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইন অনুযায়ী জব্দকৃত ডিজেল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও বিভিন্ন সময় ভিন্ন কৌশলে পাচারকারীরা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বিজিবির এই সফল অভিযানে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় অবৈধ জ্বালানি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



