নোয়াখালীর হাতিয়ায় প্রায় ৮ লাখ টাকার অবৈধ জ্বালানি উদ্ধার, আটক চারজন

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কোস্ট গার্ডের একটি পরিকল্পিত ও সফল অভিযানে প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি চোরাচালান রোধে চলমান কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার একটি বিশেষ দল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অভিযান শুরু করে। কয়েকদিন ধরে সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি চালানোর পর নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে একটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজ থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা জ্বালানি ছোট ছোট নৌযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে নামানো হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ সময় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ লিটার পেট্রোল এবং ২ হাজার ১৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব জ্বালানির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটও জব্দ করা হয়, যা এই চোরাচালান কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযানস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের হাতিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় জ্বালানি চোরাচালান একটি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের রাজস্ব খাতে ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ব্যাহত করে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে জ্বালানির সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ ব্যবসায় জড়িতদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে এবং ধীরে ধীরে এই চক্র ভেঙে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box