
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক কাওছার (২৫), মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬২), আলমগীর হোসেন মোল্লা (৫৮), খুরশিদা বেগম (৪৫) ও মাজেদা আক্তার (৪৮)। তারা সবাই মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বালিয়া মোস্তফাপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। পরিবারটির কর্তা ছিলেন হাজী আ. ওয়াহেদ মোল্লা। একসঙ্গে পরিবারের এতজন সদস্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে ফরিদপুরমুখী অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নগরকান্দা থানা পুলিশ, ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে একসঙ্গে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


