
টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রাসেল মিয়া (২০) নামে এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকালে মহাসড়কের ভাতকুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উল্টে থাকা ট্রাক দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।
নিহত রাসেল মিয়া টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি এলাকার বাসিন্দা। তিনি জহিরুল ইসলামের ছেলে। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অল্প বয়সেই ট্রাক চালানোর পেশায় যুক্ত হন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকটি যমুনা সেতুর দিকে যাচ্ছিল। সকালবেলায় মহাসড়কের ভাতকুড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর ট্রাকটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় ট্রাকটি সড়কের মাঝখানের বিভাজকের ওপর উঠে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালক ট্রাকের ভেতরে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ট্রাকের কেবিনের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় রাসেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উদ্ধারকর্মীরা।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরে উল্টে যাওয়া ট্রাকটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং পরে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় অন্য কোনো যানবাহন জড়িত ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কাজের চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, বেপরোয়া গতি এবং ক্লান্তি—এসব কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। তাই চালকদের নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে কঠোর তদারকি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


