
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সেনবাগ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কাদরা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর পেয়ারা বেগম। অভিযানে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যবসায়ী খুচরা বাজারে জ্বালানি সরবরাহ না করে নিজ বাসায় বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে আসছিলেন। এর ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছিল এবং সাধারণ ভোক্তারা ন্যায্য দামে জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে এবং পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় বাড়ির ভেতরে ড্রামে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল এবং ১ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে। জব্দকৃত তেলের পরিমাণ দেখে উপস্থিত স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসন জানায়, জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর পেয়ারা বেগম বলেন, জব্দ করা তেলগুলো পরবর্তীতে মাইকিং করে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে, যাতে কেউ সংকটে না পড়ে এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সহজে অনিয়ম করার সুযোগ পাবে না। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।



