
স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে আবারও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ক্লাবের সভাপতি নির্বাচনে জয়লাভ করে আরও একটি মেয়াদের জন্য নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। শিরোপাহীন একটি মৌসুমের পর আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়ে তিনি বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী এনরিকে রিকুয়েলমেকে পরাজিত করে সদস্যদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় সভাপতি থাকার পর ২০০৯ সালে পুনরায় এই পদে ফিরে আসা পেরেজ এখন আরও একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। আর সেই অধ্যায়ের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো হোসে মরিনহোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন। ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ নামে পরিচিত পর্তুগিজ কোচ ১৩ বছর পর আবারও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে ফিরছেন বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক মৌসুমটি প্রত্যাশা অনুযায়ী না যাওয়ায় ক্লাবের ভেতরে বড় পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল। ঘরোয়া ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় সমর্থকরা হতাশ ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে পেরেজের পুনর্নির্বাচন এবং মরিনহোর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। মরিনহো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন এবং তার সময়ে দলটি লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল। বিশেষ করে ২০১১-১২ মৌসুমে ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা জয় ক্লাবটির ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। বার্সেলোনার আধিপত্যের সময় রিয়াল মাদ্রিদকে নতুন লড়াকু মানসিকতা এনে দিয়েছিলেন মরিনহো। তার নেতৃত্বে দলটি ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিল। যদিও তার সময়ে কিছু বিতর্ক এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল, তবুও অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করেন বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদের আধুনিক সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেই সময়েই। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সবসময়ই মরিনহোর প্রতি বিশেষ আস্থা রেখেছেন। ক্লাব ছাড়ার পরও বিভিন্ন সময়ে তিনি মরিনহোর প্রশংসা করেছেন এবং তার অবদানকে স্বীকার করেছেন। তাই নতুন মেয়াদে ক্লাবকে আবারও সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনতে তিনি অভিজ্ঞ এই কোচের ওপর ভরসা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মরিনহোর প্রত্যাবর্তনের খবর পর্তুগালের ফুটবল অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে বেনফিকার মতো ক্লাবগুলো এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাতে পারে। কারণ মরিনহোর মতো অভিজ্ঞ ও সফল কোচ ইউরোপীয় ফুটবলে এখনও একটি বড় নাম এবং তার যেকোনো সিদ্ধান্তই বিভিন্ন ক্লাবের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের কাছে এই সম্ভাব্য পুনর্মিলন শুধুমাত্র একজন কোচের ফিরে আসা নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা। নতুন মেয়াদে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলকে আবারও ইউরোপ ও স্পেনের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া। আর সেই মিশনের নেতৃত্বে যদি হোসে মরিনহো থাকেন, তাহলে ফুটবল বিশ্বের নজর আবারও বার্নাব্যুর দিকে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, অতীতের এই সফল জুটি আবারও কি নতুন ইতিহাস লিখতে পারে, নাকি এটি কেবল স্মৃতিময় একটি পুনর্মিলন হিসেবেই থেকে যাবে।


