নাটোরে পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে সংঘটিত একটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে লুট হওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৬ মে রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ্দ কাছুটিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ওই পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। দলটিতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে সেখানে প্রবেশ করে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চারজন প্রহরীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ডাকাতরা প্রহরীদের মারধর করে এবং তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময় জিম্মি করে রাখে। এরপর তারা উপকেন্দ্রের বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া এসব সামগ্রীর বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ডাকাত দলটি একটি ট্রাকে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নাটোরসহ রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাত চক্রের ১৩ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রুহুল আমিন ও সৈকত নামের দুইজনকে এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা কারাগারে অবস্থান করেও বাইরের সহযোগীদের মাধ্যমে এই ডাকাতির পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে পুলিশ ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এসব আলামত ইতোমধ্যে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি পেশাদার ও সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে চক্রটির বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলমান আছে বলেও জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box