
তীব্র লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের পর্যটন খাত বর্তমানে চরম চাপে রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘনঘন বিঘ্ন ঘটায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো তাদের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে পর্যটকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটন শিল্পের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর।
পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে প্রায় সব হোটেল-মোটেলের চিত্র এখন একই রকম। দিনের বেলায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও রাত নামলেই শুরু হয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, তৈরি হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন ও কিছুটা স্থবির পরিবেশ। এতে পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু জ্বালানির তীব্র সংকটের কারণে সেই জেনারেটরগুলোও নিয়মিতভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবার পরিধি কমিয়ে দিয়েছে। রুম সার্ভিস সীমিত করা, সেন্ট্রাল এসি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু রাখা, লাইটিং কমিয়ে দেওয়া, সুইমিং পুল বা জিম সুবিধা আংশিক বন্ধ রাখা, এমনকি লাইভ মিউজিক বা বিনোদনমূলক আয়োজনও বন্ধ বা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকরাও এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক। হোটেল বুকিংয়ের আগে তারা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও জেনারেটর সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। অনেকেই ভালো সেবা নিশ্চিত করতে তুলনামূলক ব্যয়বহুল হোটেল বেছে নিচ্ছেন, যেখানে জ্বালানি মজুত কিছুটা বেশি থাকে। তবুও পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
শুধু হোটেল-মোটেলই নয়, একই সংকটে পড়েছেন কক্সবাজারের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, সংরক্ষণ এবং গ্রাহক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক রেস্তোরাঁ সীমিত মেনুতে চলে এসেছে, আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে সেবা দিতে পারছে না। এতে করে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে সাড়ে চার শতাধিক হোটেল ও মোটেলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা দ্বিগুণ হয়েছে, ফলে জ্বালানির চাহিদাও প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। কিন্তু সরবরাহ সেই হারে না বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


