নতুন নিয়মে বিপাকে ২ হাজারের বেশি ডাক্তার, অস্থায়ী কাজ হারানোর শঙ্কা

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২৬

স্বাস্থ্যখাতে নতুন নিয়ম জারির পর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) ছেড়ে যাওয়া ২ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক অস্থায়ী বা শিফটভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। সরকারের অনুমোদিত নতুন অধ্যাদেশে থাকা কয়েকটি অসামঞ্জস্য ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এপ্রিল মাসে ছয় হাজারেরও বেশি চিকিৎসক এমন বয়সে পৌঁছেছেন, যেখান থেকে তাঁরা জরুরি বিভাগের দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি চাওয়ার অধিকার পান। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি এই অব্যাহতি গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি অন্য কোনো হাসপাতালে অস্থায়ী বা শিফট ভিত্তিক চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন না। এতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ কার্যত কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসক সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কারণ অবসর বা অব্যাহতির পর বহু চিকিৎসক দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও জরুরি সেবাকেন্দ্রে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণ করতেন। নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।
সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অধ্যাদেশে চারটি বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ক্ষেত্রেই এখন পর্যন্ত বাস্তব প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বাকি বিষয়গুলো কার্যকর হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং আইনজীবী মহল বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানও পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর মতে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের আগে চিকিৎসকদের কর্মপরিস্থিতি, স্বাস্থ্যখাতের বাস্তবতা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ বলছেন, তাঁরা পুরোপুরি অবসর নিতে চান না। বরং কম সময় কাজ করে নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান। কিন্তু নতুন নিয়ম তাঁদের সেই পথও বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে শুধু চিকিৎসকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং রোগীরাও অভিজ্ঞ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ধরে রাখার জন্য নমনীয় কর্মপরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে এমন কঠোর বিধিনিষেধ স্বাস্থ্যখাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে দক্ষ চিকিৎসকের অভাব দেখা দিলে রোগীদের সেবার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সরকার বলছে, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতে দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা। তবে চিকিৎসক সংগঠনগুলো মনে করছে, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট সমাধানে সরকার, চিকিৎসক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে দ্রুত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

Facebook Comments Box