
পিরোজপুরের সদর উপজেলার শাড়িকতলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শনিবার (৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময়ে বাজারের একটি দোকানে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ছোট পরিসরে আগুন দেখা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারে অধিকাংশ দোকান পাশাপাশি ও ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অনেক দোকান মালিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজেদের মালামাল রক্ষার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে অধিকাংশ দোকান থেকে কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা একযোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। কেউ বালতি দিয়ে পানি ছিটান, আবার কেউ দোকানের ভেতর থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তাদের প্রচেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি। পরে খবর পেয়ে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই অগ্নিকাণ্ডে ওষুধের ফার্মেসি, মুদির দোকান, ডেকোরেটর, চায়ের দোকান, চটপটির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও মালামালও আগুনে নষ্ট হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই পথে বসার আশঙ্কা করছেন। অনেকের দাবি, দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা কয়েক ঘণ্টার আগুনে শেষ হয়ে গেছে।
ঘটনার পর বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত সহায়তা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যবসায়ীরাও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।



