
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে চলমান বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের কয়েকটি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ছে।
বুধবার (১৩ মে) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও আগামী দুই দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদী এবং সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানিও আগামী দুই দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই এবং জুড়ি নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ভারত সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি গাজীর ভিটা ও ভূবন কূড়া এলাকায় প্রবাহিত হতে থাকে। এতে ভোড়াঘাট নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বসতবাড়ি, মাছের ঘের এবং কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকার কাঁচা সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই ইউনিয়নের অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়ক ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে স্থানীয়দের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পানি আরও বাড়লে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে নিচু জমিতে থাকা ফসল পানিতে ডুবে গেলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এছাড়া অনেক স্থানে গবাদিপশু ও ঘরবাড়ি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


