
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মঙ্গলবার (১২ মে) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অন্তত ১০ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি কিংবা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং যাত্রীদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। দিনের গরমের পর বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী ধরনের ঝড় সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে কোথাও কোথাও হঠাৎ দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে।
আবহাওয়ার আরেক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের বেলায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হলেও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক স্বস্তি ফিরতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনার কয়রায়, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকায়, ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, যেখানে ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় খোলা মাঠ, নদী বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করাই নিরাপদ। ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।



