নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের আগুনে একই পরিবারের ৫ জন আহত

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসেন এবং মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে একটি আটতলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাট থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেননি কী ঘটেছে। পরে ধোঁয়া ও আগুনের আভাস দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ওই ফ্ল্যাটের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন মো. কালাম, তার স্ত্রী সালমা এবং তাদের তিন সন্তান মুন্না, মুন্নি ও কথা। প্রত্যেকেই শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নাঘরে আগুন বা লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়।
ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, বিস্ফোরণের কারণে ফ্ল্যাটটির দরজা-জানালার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকেও শোনা যায়। তবে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড না ঘটায় আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুরোনো গ্যাসলাইন, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক ভবনগুলোতে গ্যাস সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত গ্যাসলাইন পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কোনোভাবেই আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করা যাবে না। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box