
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী সোমবার (১১ মে) থেকে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করবে সরকারি এ সংস্থাটি।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের নির্ধারিত পয়েন্টে ট্রাকসেলের মাধ্যমে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব ট্রাকে পণ্য সরবরাহ থাকবে এবং সাধারণ ক্রেতারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পণ্য কিনতে পারবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে বাড়তি চাহিদা ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সংস্থাটির নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা এবং প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। প্রতিটি ট্রাকে নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য মজুত রাখা হবে, যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ এই সুবিধা নিতে পারেন।
এদিকে টিসিবির আওতাভুক্ত কার্ডধারী পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। সরকার নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই টিসিবির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঈদুল আজহার আগে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় এবারও আগাম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিসিবি জানিয়েছে, দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রেখে এবং ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো যাতে কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে যখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, তখন টিসিবির এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে। পাশাপাশি খোলা বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণেও এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



