বিমানবন্দরে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আরও পুলিশ মোতায়েন, সংখ্যা জানায়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে আরও পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ঠিক কতজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের “কার্যক্রমিক ব্যবস্থাপনা” পরিচালনার দায়িত্ব জননিরাপত্তা পুলিশ বা পিএসপি’র ওপর বর্তায়। একই সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পিএসপি-কে “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে বিমানবন্দর নিরাপত্তা, পাসপোর্ট যাচাই, সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাত্রীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল নজরদারি এবং উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থার সঙ্গে দক্ষ জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং কোন কোন বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নজরদারি কখনো কখনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দর নিরাপত্তা খাতে নতুন এই উদ্যোগকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ নিরাপত্তা কর্মী থাকলে আন্তর্জাতিক অপরাধ, মানবপাচার, জাল পাসপোর্ট ব্যবহার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করা সহজ হবে। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।


