আবারও ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন ঘোষণায় প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বৃদ্ধি করে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই জ্বালানির দাম ছিল ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিইআরসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) রাত ১২টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। কমিশনের এক বিশেষ সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৫ মার্চ ফার্নেস অয়েলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি খরচ, ডলার বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি সুপারিশ প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই বিইআরসি সর্বশেষ মূল্য বৃদ্ধি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে। বাংলাদেশে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যুৎকেন্দ্র ফার্নেস অয়েলনির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়লে সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও গত ১২ এপ্রিল ফার্নেস অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্পখাত, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে ঘন ঘন মূল্য বৃদ্ধি দেশের উৎপাদন খরচ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

Facebook Comments Box