
জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়লেও সংকটের রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এখনও তেল নিতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে গাড়িচালক ও সাধারণ গ্রাহকদের। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, আগের কয়েকদিনের তুলনায় পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ বেড়েছে। অনেক পাম্পে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে পাম্পে বাড়তি চাপ কিছুটা কমেছে এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রয়োজনও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত কয়েকদিনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পর সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। বিভিন্ন ডিপো ও টার্মিনাল থেকে নিয়মিত তেল আসতে শুরু করেছে। যদিও কিছু কিছু এলাকায় পরিবহনজনিত কারণে সরবরাহ পৌঁছাতে সামান্য সময় লাগছে, তবুও তা বড় ধরনের কোনো সমস্যা তৈরি করছে না।
ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, কয়েকদিন আগে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছিল। অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এতে পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ লাইনের তৈরি হয়। এখন সেই আতঙ্ক অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে অতিরিক্ত চাহিদাও কমতে শুরু করেছে।
এদিকে গাড়িচালকরাও বলছেন, আগের তুলনায় এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েকদিন আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও বর্তমানে অপেক্ষার সময় অনেক কমেছে। তেল পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা আগের তুলনায় কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা যায় এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকে, তাহলে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে আর দীর্ঘ লাইনের প্রয়োজন হবে না এবং গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমে আসবে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহে আবার কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সংকট নতুন করে দেখা দিতে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সরবরাহ এবং তদারকি অব্যাহত রাখা জরুরি। তাহলেই জ্বালানি বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


