জ্বালানি সংকট সরকারের সৃষ্টি নয়, তবে চাহিদা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

জ্বালানি সংকটকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই সংকট সরাসরি সরকারের সৃষ্টি নয়, তবে চাহিদা ব্যবস্থাপনায় (ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট) কিছু দুর্বলতা ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই বিরোধীদল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসেছে যেন পারস্পরিক দোষারোপ, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে সরে এসে জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের জনগণ বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত সমাধান চায়, তাই সরকার ও বিরোধীদল উভয় পক্ষের উচিত গঠনমূলক ভূমিকা রাখা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে সংকট মোকাবিলা অনেক সহজ হয়ে উঠবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট নতুন কোনো বিষয় নয়, এটি একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তবে দেশের অভ্যন্তরে সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি মনে করেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং যথাযথ পূর্ব পরিকল্পনার অভাবই বর্তমান সমস্যাকে জটিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি রেশনিং একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে, বিশেষ করে সংকটময় সময়ে এটি জনগণের জন্য সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি খাতে যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি, কালোবাজারি বা সুযোগসন্ধানী চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যারা অসাধু উপায়ে সংকটকে পুঁজি করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধীদল যদি একসঙ্গে বসে যৌথভাবে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করে, তাহলে তা শুধু সমস্যার সমাধানেই সহায়ক হবে না, বরং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে। এতে গণতান্ত্রিক চর্চাও আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এ ধরনের জাতীয় সংকট মোকাবিলায় একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বিরোধীদল ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে এবং দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

Facebook Comments Box