ভারত থেকে তিন ট্রাক বিস্ফোরক আনলো বাংলাদেশ

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২৬

ভারত থেকে তিনটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিস্ফোরকবাহী চালানটি যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। কাস্টমসের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় চালানটি বন্দরের নির্ধারিত নিরাপদ শেডে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চালানটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এর পরিবহন, সংরক্ষণ এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াতেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের খনিজ উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারত থেকে প্রথম ধাপে ৪০ মেট্রিক টন ইমালশন এক্সপ্লোসিভ এবং ১০০ কিলোমিটার ডেটোনেটিং কর্ড আমদানি করা হয়েছে। ভারতের বেঙ্গালুরু ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেলটেক এনার্জিস লিমিটেড এসব বিস্ফোরক সরবরাহ করেছে। তিনটি ভারতীয় ট্রাকে করে চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির খনিতে পাথর উত্তোলনের কাজে এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করা হবে। খনিজ সম্পদ উত্তোলনে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ইমালশন এক্সপ্লোসিভ সাধারণ বিস্ফোরকের তুলনায় অধিক নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এ কারণেই চালানটি বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরক দ্রব্য হওয়ায় চালানটি সাধারণ পণ্যের মতো খালাস বা সংরক্ষণ করা হয়নি। বন্দরের নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তা রাখা হয়েছে। কাস্টমস বিভাগ, বন্দর নিরাপত্তা শাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন। চালানের আশপাশে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাস্টমসের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী শুক্রবার (৮ মে) পুলিশি প্রহরায় বিস্ফোরকগুলো দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের এক্সপ্লোসিভ ম্যাগাজিনে পাঠানো হবে। পরিবহনের সময়ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং পুরো রুটজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে চালান পরিবহনের সময়সূচি ও রুট সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, বিস্ফোরকবাহী এই চালানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। বন্দরের প্রচলিত নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে কাস্টমস, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু এটি স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য, তাই সংরক্ষণ থেকে শুরু করে পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্দরে বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের তদারকিতে চালানটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিস্ফোরকগুলো গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box