
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের স্বল্পলাড়ু গ্রামে ধলেশ্বরী নদী সংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরের দিকে প্রতিদিনের মতো কয়েকজন কৃষক জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় তারা ধানক্ষেতের ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন, এক নারীর রক্তাক্ত দেহ মাটিতে পড়ে আছে। দৃশ্যটি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের ডেকে আনেন। পরে বিষয়টি দ্রুত দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহটি এখানে ফেলে রাখা হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ, যা ঘটনাটিকে রহস্যজনক করে তুলেছে।
পুলিশ জানায়, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার পরনে থাকা কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আশপাশের এলাকা ছাড়াও নিকটবর্তী থানাগুলোতে এ বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে কেউ নিখোঁজ থাকলে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।
দেলদুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।” তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ করা হবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এমন একটি নৃশংস ঘটনার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। অনেকেই মনে করছেন, অপরাধীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তারা বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দেরও যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


