পর্তুগালের এফ-১৬ প্রতিস্থাপনে ইউরোফাইটার বনাম এফ-৩৫: ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন বিতর্ক

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৬

পর্তুগালের বিমানবাহিনীর পুরোনো এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো ধীরে ধীরে তাদের কার্যকরী জীবনসীমার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি দেশটির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন নির্মিত এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এবং ইউরোপীয় কনসোর্টিয়ামের তৈরি ইউরোফাইটার টাইফুনের মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস পর্তুগিজ বিমানবাহিনীর এফ-৩৫-এর প্রতি ‘আকর্ষণীয় আগ্রহ’-এর প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইউরোফাইটার কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, পর্তুগাল যদি এফ-১৬-এর পরিবর্তে ইউরোফাইটার টাইফুন বেছে নেয়, তাহলে তা শুধু একটি সামরিক ক্রয় হবে না; বরং এটি হবে ইউরোপীয় শিল্প, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
এয়ারবাসের মতে, ইউরোফাইটার টাইফুন এমন একটি যুদ্ধবিমান যা ইউরোপের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এটি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে মহাদেশের বাইরের কোনো শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল করে তোলে না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, মার্কিন নির্মিত এফ-৩৫ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত। উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবস্থা এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এটি ন্যাটো জোটভুক্ত বহু দেশের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। পর্তুগিজ বিমানবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাও এফ-৩৫-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে ইউরোফাইটার সমর্থকদের দাবি, ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে হলে সদস্য দেশগুলোর উচিত ইউরোপীয় নির্মাতাদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আঞ্চলিক শিল্প উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ চেইন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পর্তুগালের সামনে সিদ্ধান্তটি শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং রাজনৈতিক বিবেচনারও বিষয়। একদিকে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি এফ-৩৫, অন্যদিকে রয়েছে ইউরোপীয় শিল্প ও প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতীক ইউরোফাইটার টাইফুন।
পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত কোন যুদ্ধবিমান বেছে নেবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু দেশটির বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ নয়, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box