পর্তুগিজ রপ্তানি নিয়ে সতর্কবার্তা, ২০২৭ সালের মধ্যে বাজার অংশ হারানোর আশঙ্কা

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৬

পর্তুগালের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গত দেড় দশকে দেশটির রপ্তানি শুধু জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানই রাখেনি, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে সেই ইতিবাচক ধারায় এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন। ব্রাসেলসের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে পর্তুগিজ রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশ হারাতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যে বাজার অংশ কমতে শুরু করেছে, তা কেবল সাময়িক নয়। বরং আগামী দুই বছরেও এই নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং শিল্প উৎপাদনে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, ইউরোপীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা—এসব কারণ মিলেই পর্তুগালের রপ্তানি খাতকে চাপে ফেলছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, জুতা, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ এবং কৃষিপণ্য খাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারায় ইউরোপীয় বাজারে পর্তুগিজ পণ্যের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে।
পর্তুগালের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর দেশটি রপ্তানি খাতকে কেন্দ্র করেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশন মনে করছে, সেই সাফল্যের ধারা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়বে। এজন্য আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো নতুন বাজারে প্রবেশের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং শিল্প আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে পর্তুগিজ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সরকারের কাছে কর সুবিধা, রপ্তানি প্রণোদনা এবং জ্বালানি ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরে পর্তুগালের অর্থনীতি রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কার মুখোমুখি হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের এই পূর্বাভাস তাই শুধু একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে।

Facebook Comments Box