পর্তুগালে শিশু দারিদ্র্য ভয়াবহ, প্রতি ২০ জনে ১ শিশু ক্ষুধার্ত

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২৬

পর্তুগালে শিশু দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩ লাখ ১ হাজার দরিদ্র শিশুর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ শিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ২০ জন দরিদ্র শিশুর মধ্যে একজন এমন অবস্থায় ছিল, যেখানে টাকার অভাবে তারা পর্যাপ্ত খাবার পেত না কিংবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হতো।
শুধু খাবারের সংকটই নয়, অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে এসব শিশুর অর্ধেকই পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা অবসরকালীন নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেনি। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জীবনের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যদি কোনো শিশু দীর্ঘ সময় ধরে অপুষ্টি, অনাহার কিংবা সামাজিক বঞ্চনার মধ্যে বেড়ে ওঠে, তাহলে তার শিক্ষাজীবন, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমানে পর্তুগালের অনেক পরিবার ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের কারণে সন্তানদের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সামাজিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনেক পরিবার প্রতিদিন খাবারের তালিকা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ দিনে একবেলা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে, যাতে সন্তানদের জন্য কিছু খাবার রাখা যায়। তবে তাতেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের পরিবার, একক অভিভাবক পরিবার এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর শিশুরা।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শিশুদের শুধু খাবার নয়, নিরাপদ জীবন, শিক্ষা, বিনোদন ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশু বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যেতে পারে না, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে না কিংবা স্কুলের অতিরিক্ত শিক্ষামূলক কার্যক্রম থেকেও বাদ পড়ে যাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বৈষম্য আরও গভীর হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংকট বাড়ছে, আর এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিশুরা। পরিবারগুলো যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খায়, তখন শিশুদের পুষ্টিকর খাবার, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
পর্তুগালের সামাজিক অধিকারকর্মীরা সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি, শিশু ভাতা সম্প্রসারণ, স্কুলভিত্তিক বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচি জোরদার এবং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশুদের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য শুধু মানবিক সংকট নয়, এটি একটি দেশের ভবিষ্যতের জন্যও বড় হুমকি। কারণ ক্ষুধার্ত ও বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কখনোই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
পাঠকরাই সংবাদপত্রের প্রাণ। আপনাদের সমর্থন ও সচেতনতাই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়কে সামনে তুলে আনতে সহায়তা করে। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Facebook Comments Box