জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লেও কমেনি ভোগান্তি, পাম্পে এখনও দীর্ঘ সারি

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে আবারও দেখা গেছে চিরচেনা ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষার দৃশ্য। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি; বরং ভোগান্তি যেন আগের মতোই রয়ে গেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির সারি চোখে পড়েছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
রাজধানীর আসাদ গেট ও পরীবাগ এলাকার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রেশনিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি যানবাহনকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক তাদের চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছেন না। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাত থেকে লাইনে থাকলেও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও সরবরাহ পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বরং অনেক পাম্পে তেলের পরিমাণ সীমিত করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে যাদের দৈনন্দিন আয় যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল, তারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। গণপরিবহন চালকদেরও একই ধরনের অভিযোগ—তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সেবা দিতে পারছেন না।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেই নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা প্রতি লিটার। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পরও সরবরাহ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি না আসায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পরিবহন ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যস্ফীতি ডেকে আনতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভোক্তারা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র দাম বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। অন্যথায়, জ্বালানি সংকট ও এর ফলে সৃষ্ট ভোগান্তি দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

Facebook Comments Box