
আগামী ২ জুলাই থেকে সারাদেশে একযোগে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ—সব ধাপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, কেন্দ্র সচিব ও পরিদর্শকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরীক্ষার আগের সময়গুলোতে পুনরাবৃত্তিমূলক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিতে। অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে তাদের পাশে থেকে সহায়তা করতে হবে, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
এদিকে সম্প্রতি অনলাইনে একটি পুরোনো আইন ভুলবশত আপলোড হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ছিল এবং বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পরীক্ষার নিয়ম-কানুন বা সময়সূচিতে এর কোনো প্রভাব নেই। তাই গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে সম্পন্ন হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পারবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।


